ইরানে যৌথ হামলা: চীন-রাশিয়া কেন ‘সাইডলাইনে’

Date: 2026-03-04
news-banner

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর নানা মহলে প্রশ্ন উঠছে, ‘চীন-রাশিয়া চুপ কেন?’ এর উত্তর লুকিয়ে আছে দুটি কূটনৈতিক ও আইনি শব্দের মধ্যে- অংশীদার ও মিত্র।

সামরিক হস্তক্ষেপ না করার প্রধান কারণ হলো বেইজিং ও মস্কো কেবল ইরানের ‘কৌশলগত অংশীদার’। বিপরীতে ইসরায়েলের আছে যুক্তরাষ্ট্রের মতো ‘কৌশলগত অভিভাবক বা মিত্র’। ফলে ইরানের শাসকদের বিরুদ্ধে পারমাণবিক হুমকির অভিযোগ তুলে তেল আবিবের চালানো হামলায় ওয়াংশিংটনও অংশ নিয়েছে। বিপরীতে তেহরানের ‘বন্ধু’ হিসেবে পরিচিত মস্কো ও বেইজিং কেবল হামলা ও আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে। এমনকি শনিবার সকালের ঘটনার পর তেহরানের শীর্ষ কূটনীতিকরা মস্কোর নম্বরে কলও করেছিলেন। রুশ সরকারের বিবৃতি অনুযায়ী, ফোনের অপরপাশ থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ কেবল সহানুভূতি ও মৌখিক সমর্থনের কথা জানান।

চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সিনহুয়ার তথ্য অনুযায়ী, ল্যাভরভের সঙ্গে ফোনালাপ করেছেন চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। তারা একমত হন- একটি সার্বভৌম দেশের নেতাকে ‘নির্লজ্জভাবে হত্যা’ এবং শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের উসকানি দেওয়া ‘অগ্রহণযোগ্য’। নিন্দা জানিয়েছেন ভ্লাদিমির পুতিনও। তবে শি জিনপিংয়ের পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো প্রতিক্রিয়ার তথ্য জানা যায়নি।

তারা অংশীদার মিত্র নয়
গত বছরের ১৭ জানুয়ারি ইরানের সঙ্গে রাশিয়া ‘কৌশলগত অংশীদারত্ব’ চুক্তি স্বাক্ষর করে। এতে সামরিক সম্পর্ক বাড়লেও যৌথ প্রতিরক্ষা গড়ে তোলার কথা নেই। চুক্তি অনুযায়ী, হামলার সময় রাশিয়ার ভূমিকা কেবল পরামর্শ প্রদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। আইনিভাবে অংশীদার হওয়ায় রাশিয়া ইরানকে কেবল সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করতে পারবে, সৈন্য নয়।

চুক্তিটি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের পর রুশ রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিক নিকিতা স্মাগিন সিএনএনকে বলেছিলেন, এটি কেবল ‘সমর্থন দেখানোর প্রদর্শনী’। ইরানিরা ট্রাম্প প্রশাসন ও ইসরায়েলকে নিয়ে আতঙ্কিত। তারা সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের পতন ও হিজবুল্লাহর বিপর্যয় নিয়ে শঙ্কিত। ফরেন পলিসির বিশ্লেষকদের ধারণা, তথাকথিত এই ‘প্রতিরোধ অক্ষের’ অন্তর্ভুক্ত প্রক্সি গোষ্ঠীগুলো দুর্বল হওয়াতেই তেহরান মস্কোর দিকে ঝুঁকেছে। 

অপরদিকে চীনের সঙ্গে ইরানের সহযোগিতামূলক বড় চুক্তিটির মেয়াদ ২৫ বছরের। ৪০০ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্যিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট চুক্তিটি স্বাক্ষর হয় ২০২১ সালে। এর মাধ্যমে চীন ইরানকে ‘ব্যাপক কৌশলগত অংশীদার’ হিসেবে গণ্য করে। তবে বেইজিংয়ের কূটনৈতিক অভিধানে এর অর্থ হলো- ‘আমরা কেবল বাণিজ্য সহযোগিতা সমন্বয় করব’। 

image

Leave Your Comments