ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ধ্বংসের চেষ্টা বিপদজনক হতে পারে

Date: 2026-03-05
news-banner

ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরিতে কাজ করছে অজুহাতে দেশটিতে বর্তমানে সাঁড়াশি আক্রমণ চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। যদিও দেশ দুটি এখনও ইরানের বিরুদ্ধে পরমাণু অস্ত্র তৈরির কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেনি। এমনকি আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) প্রধান রাফায়েল গ্রোসিও বলেছেন, ইরান পারমাণবিক বোমা তৈরি করছে এমন কোনো অকাট্য প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তার পরও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তা মানতে নারাজ। এরই মধ্যে দেশ দুটি ইরানের অসংখ্য স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে, হত্যা করা হয়েছে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে। ইরানও এর পাল্টা প্রত্যাঘাত হিসেবে ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনা লক্ষ্য করে টানা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। পাল্টাপাল্টি এই হামলায় বাড়ছে মৃতের সংখ্যা ও ক্ষয়ক্ষতি।  

পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরমাণু অস্ত্রের অজুহাতে ইরানের ওপর হামলা হিতে বিপরীত হতে পারে। তাদের মতে, এই হামলা ইরানকে গোপনে পারমাণবিক বোমা তৈরির দিকে ঠেলে দিতে পারে।বুধবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানে প্রকাশিত এক নিবন্ধে বলা হয়, গত বছরের গ্রীষ্ম নাগাদ ইরানের কাছে প্রায় ৪৪০ কেজির বেশি উচ্চমাত্রার ইউরেনিয়াম জমা হয়েছে, যার বিশুদ্ধতা ৬০ শতাংশ। প্রযুক্তিগতভাবে এই ইউরেনিয়াম ৬০ থেকে ৯০ শতাংশে পৌঁছানো তুলনামূলক সহজ। আর ৯০ শতাংশ বিশুদ্ধ ইউরেনিয়ামই হলো ‘ওয়েপন গ্রেড’, যা দিয়ে পারমাণবিক ওয়ারহেড তৈরি করা সম্ভব। এই মজুতকৃত ইউরেনিয়াম গ্যাস থেকে ধাতুতে রূপান্তর করা গেলে ইরান অনায়াসেই ১০টির বেশি পরমাণু বোমার ওয়ারহেড তৈরি করতে পারবে।

২০১৫ সালের চুক্তি ভেস্তে যাওয়ার পর ইরানের গড়ে ওঠা এই মজুত ধ্বংস করতেই গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে দেশটিতে হামলা চালায়। ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’-এর আওতায় মার্কিন বাহিনী ইরানের পরমাণু স্থাপনাগুলোতে বাঙ্কার বিধ্বংসী বোমা নিক্ষেপ করে। ট্রাম্প সেই সময় দাবি করেছিলেন, এই বোমা হামলায় ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। কিন্তু শিগগিরই স্পষ্ট হয়ে যায়, ট্রাম্পের কথা সত্য নয়। হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও ইস্পাহান ও নাতাঞ্জের পাহাড়ের গভীরে অবস্থিত সুড়ঙ্গসদৃশ স্থাপনাগুলো ধ্বংস করা সম্ভব হয়নি।

 

image

Leave Your Comments